তীব্র ট্রাফিক জ্যাম, অফিসের কাজের চাপ আর ধুলোবালির এই ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন। কিন্তু ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে আপনার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে দিতে।
ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটিতে আমাদের দিনের বড় অংশ কাটে বসে থেকে অথবা যানজটে। এই স্থবিরতা আমাদের অজান্তেই শরীরের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করে।
আমরা বিশ্বাস করি, জীবনযাপন মানে শুধু ব্যায়াম করা নয়, বরং দিনের চব্বিশ ঘণ্টাকে কীভাবে আপনি ভাগ করছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার শারীরিক সুস্থতা। অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করার সময় প্রতি এক ঘণ্টা পর পর ৩ মিনিটের জন্য দাঁড়ানো অথবা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা—এই সামান্য কাজগুলোই দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনে।
মিনিট সকালের রোদে হাঁটা
গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান
নিজের রুটিনটি একবার মিলিয়ে নিন, এর কোনোটি আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী কি না?
অফিসে ক্লান্তি দূর করতে আমরা বারবার লাল চা বা দুধ চা পান করি। প্রতি কাপে ২ চামচ চিনি দিনশেষে বড় পরিমাণে শর্করা যোগ করে।
ঘুমের আগে নীল আলো চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এটি আপনার ঘুমের চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট করে দেয়।
কাজের চাপে লাঞ্চ করতে দেরি হওয়া অথবা ভারী নাস্তা খেয়ে দুপুর পার করে দেওয়া শরীরের শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়।
আমাদের দেশি খাবারে ভাত আর ডালের যে সংমিশ্রণ, তা প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের দারুণ উৎস। তবে শহরের জীবনে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় খাবারের পরিমাণে সচেতন হওয়া জরুরি।
দুপুরের খাবারে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবজি ও মাছের দিকে বেশি গুরুত্ব দিন। বিশেষ করে দুপুরে ভারী খাবারের পর যে অলসতা কাজ করে, তা কাটাতে কিছু লেবুর শরবত বা সালাদ বেশ কার্যকর হতে পারে।
শহরের ধুলোবালি ও গরমের মধ্যে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি কাজ। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আপনার ত্বককে সতেজ রাখে এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে।
সুস্থ থাকা মানেই ম্যারাথন দৌড়ানো নয়, বরং শরীরকে সচল রাখা।
রিকশার বদলে অল্প দূরত্ব হেঁটে চলুন। অফিসের মিটিং বা ফোনে কথা বলার সময় রুমে একটু পায়চারি করুন।
রাত ১১টার মধ্যে শোবার চেষ্টা করুন। ঘুমের আগে রুমের আলো কমিয়ে ফেলুন এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।
‘ভারসাম্যপূর্ণ জীবন’ কোনো ক্লিনিক বা চিকিৎসা কেন্দ্র নয়। এটি একটি সামাজিক শিক্ষা উদ্যোগ যা ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশের মানুষকে তাদের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট কিন্তু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উদ্বুদ্ধ করে আসছে।
আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতার মাঝে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য একটি জীবনব্যাপী যাত্রা, কোনো সাময়িক লক্ষ্য নয়।
"আমরা কোনো ঔষধ বা চিকিৎসা প্রদান করি না। আমরা কেবল সচেতনতা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন গড়ার পথ দেখাই। যেকোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই চূড়ান্ত।"
কনটেন্ট কো-অর্ডিনেটর ও লাইফস্টাইল মেন্টর
আসিফ গত ৫ বছর ধরে নাগরিক জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয় কমিউনিটির সাথে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করেন।
অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা আপনার শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে যথেষ্ট। আপনি যদি ব্যস্ত থাকেন, তবে ১০ মিনিট করে দিনে তিনবার হাঁটতে পারেন।
না, উল্টো এতে আপনার শরীরের শক্তির অভাব দেখা দিতে পারে এবং দুপুরে আপনি বেশি খেয়ে ফেলতে পারেন। সকালে একটি পুষ্টিকর নাস্তা দিন শুরুর জন্য অপরিহার্য।
সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করুন এবং প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর অন্তত ১ মিনিটের জন্য চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ান। হাত ও ঘাড় হালকা স্ট্রেচিং করে নিন।
চায়ের সাথে চিনির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমান। এছাড়া কোমল পানীয়ের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি পান শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ পর জিভ কম চিনিতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
আমাদের উদ্যোগ সম্পর্কে আরও জানতে বা কোনো পরামর্শ দিতে নিচের ঠিকানায় আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।